দেশে কঠোর নজরদারিতে ফেসবুক-ইউটিউব
গুজব ঠেকাতে দেশে কঠোর নজরদারিতে রাখা হয়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক-ইউটিউব। ভুয়া পোস্ট মুছে ফেলার সঙ্গে সঙ্গে দোষীদের আটক করতে তৎপর হয়েছে আইন প্রযোগকারী সংস্থা।
ইতোমধ্যে বিটিআরসির মাধ্যমে ফেসবুকের ৪০ শতাংশ পোস্ট ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে মুছে দেওয়া সম্ভব হয়েছে বলে জানিয়েছে সিআইডি সূত্র। সূত্রটি জানিয়েছে এরমধ্যে, ৪৩ হাজার লাইকি বন্ধ করা হয়েছে। ভিগো লাইভের ওপর কাজ হচ্ছে। সাইবার নিরাপত্তায় কড়া নজর রাখছে র্যাব-পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন ইউনিট।
কোরিয়া সরকারের সহায়তায় বন্দর নগরি চট্টগ্রামে সাইবার ফরেনসিক ল্যাব স্থাপন করার উদ্যোগ নিয়েছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ-সিআইডি। গুজব সৃষ্টিকারীদের শনাক্ত ও গ্রেফতার করে তাৎক্ষণিক ভ্রাম্যমাণ আদালতে সাজার কথাও ভাবছে সরকার।
পুরো বিষয়টি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিতে ইতোমধ্যেই ফেসবুক, টুইটার, লাইকি, ভিগো লাইভসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের লিয়াজোঁ অফিস স্থাপনে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ। শিগগিরই এসব প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশে লিয়াজোঁ অফিস খুলবে এবং তখন সাইবার অপরাধ নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে সরাসরি তাদের সহায়তা নেওয়া যাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার।
র্যাবের একটি পরিসংখ্যান থেকে জানা যায়, ২০০৪ সাল থেকে চলতি বছর পর্যন্ত ২৩৫টি মামলার বিপরীতে ২৪৩টি অভিযানে ৪১৭ জনকে গ্রেফতার করে র্যাব। এর মধ্যে ২০০৪ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত মাত্র ২৩টি মামলার বিপরীতে ২৫টি অভিযানে ১৪৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়। তবে ২০১৮ সাল থেকে বাড়তে থাকে সাইবার অপরাধের ঘটনায় গ্রেফতারের সংখ্যা। এরইমধ্যে ভিগো লাইভের মাধ্যমে মানি লন্ডারিংয়ের অসংখ্য অভিযোগ আসার কারণে বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
জানা গেছে, কেউ যাতে এমন গুজবের শিকার না হয় সে জন্য কঠোর অবস্থানে যাচ্ছে সরকার। ইতিমধ্যে গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা ফেসবুকের বড় বড় গ্রুপ এবং পেজের পোস্টে নজরদারি শুরু করেছে। র্যাবের প্রতিটি ব্যাটালিয়নে একটি বিশেষ টিম করা হয়েছে কেবল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে নজরদারি করার জন্য। গুরুত্বের ভিত্তিতে গুজব প্রতিরোধ সংক্রান্তে সদর দফতর থেকে দ্রুততার সঙ্গে সব ধরনের সাপোর্ট নিশ্চিত করা হয়। মুহূর্তেই কোনো আক্রমণাত্মক ও রাষ্ট্রবিরোধী পোস্ট দেখলে সঙ্গে সঙ্গে সুনির্দিষ্ট প্রক্রিয়ায় ফেসবুকের কাছে পোস্ট মুছে দেওয়ার আবেদন করছেন তারা।